বাংলাদেশের দারিদ্র্য মানচিত্র ২০২২ রিপোর্ট প্রকাশ

বিবিএস কর্তৃক প্রণীত এই তথ্য-উপাত্ত সঠিক উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনে ব্যাপক অবদান রাখবে। বিবিএস ১৯৭৩ সাল থেকে খানার আয় ও ব্যয় জরিপ থেকে দারিদ্র্য পরিমাপ করে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় ২০২২ সালে খানার আয় ও ব্যয় জরিপ ২০২২-এর ১৭তম রাউন্ড পরিচালিত হয়েছিলো।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) দারিদ্র্য ও জীবন-জীবিকা পরিসংখ্যান (পিএলএস) সেল কর্তৃক বাস্তবায়িত ‘বাংলাদেশের দারিদ্র্য মানচিত্র ২০২২-এর রিপোর্ট প্রকাশনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় আগারগাঁওয়ের বিআইসিসিতে প্রকাশনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন; বিশেষ অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম, বাংলাদেশের ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর সিমোন লসন পার্চমেন্ট এবং ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের হিউম্যান ডেভেলপমেন্টের (বাংলাদেশ ও ভুটান) অ্যাক্টিং অপারেশনস ম্যানেজার ও প্রোগ্রাম লিডার এস. আমের আহমেদ।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিবিএসের মহাপরিচালক মো. মিজানুর রহমান। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, সংস্থা, জাতিসংঘ ও উন্নয়ন সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী, গবেষণায় বিবিএস ও এসআইডির কর্মকর্তারা, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এবং গবেষণা সংস্থার প্রতিনিধিরা, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিবিএসের উপমহাপরিচালক মোহাম্মদ ওবায়দুল ইসলাম এবং বাংলাদেশের দারিদ্র্য মানচিত্র ২০২২ রিপোর্ট বিষয়ক উপস্থাপনা প্রদান করেন বিবিএসের দারিদ্র্য ও জীবন-জীবিকা পরিসংখ্যান (পিএলএস) সেলের ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা মহিউদ্দিন আহমেদ, এমপিএইচ।

অনুষ্ঠানে অতিথিরা ‘বাংলাদেশের দারিদ্র্য মানচিত্র ২০২২’ কার্যক্রমের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে বলেন, বিবিএস কর্তৃক প্রণীত এই তথ্য-উপাত্ত সঠিক উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনে ব্যাপক অবদান রাখবে। বিবিএস ১৯৭৩ সাল থেকে খানার আয় ও ব্যয় জরিপ থেকে দারিদ্র্য পরিমাপ করে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় ২০২২ সালে খানার আয় ও ব্যয় জরিপ ২০২২-এর ১৭তম রাউন্ড পরিচালিত হয়েছিল। যেখান থেকে জাতীয় ও বিভাগ পর্যায়ের তথ্য উপাত্ত উঠে এসেছে। মূলত খানার আয় ও ব্যয় জরিপ এবং জনশুমারি ও গৃহগণনার উপর ভিত্তি করে স্মল এরিয়া এস্টিমেশন পদ্ধতি ব্যবহার করে দেশের সকল জেলা ও উপজেলার দারিদ্র্য হার প্রাক্কলন করা হয় এবং প্রয়োজনীয় বিভিন্ন দারিদ্র্য মানচিত্র প্রণয়ণ করে থাকে, যেখানে দারিদ্র্য প্রবণ অঞ্চল ও অতি দারিদ্র্য প্রবণ অঞ্চলসমূহ মানচিত্রে উপস্থাপন করা হয়।

বিবিএস দারিদ্র্য মানচিত্র প্রণয়ণের জন্য বিশ্ব খাদ্য সংস্থা ও বিশ্ব ব্যাংক ২০০০ সাল থেকে যৌথভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ‘বাংলাদেশের দারিদ্র্য মানচিত্র ২০২২’ প্রণয়নে বিশ্ব ব্যাংক টেকনিক্যাল সহযোগিতা করেছে এবং বিশ্ব খাদ্য সংস্থা (ডব্লিউএফপি) আর্থিক সহযোগিতা করছে। তারই ধারাবাহিকতায় এ প্রকাশনা যৌথভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে।

বিভিন্ন পলিসি গ্রহণে সরকারসহ বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারের নিকট দারিদ্র্য পরিসংখ্যানের উপাত্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খানার আয় ও ব্যয় জরিপ ও জনশুমারির উপাত্তের ওপর ভিত্তি করে জেলা ও উপজেলার দারিদ্র্য হার প্রাক্কলন করা হয়। দারিদ্র্য পরিসংখ্যান সংক্রান্ত বিশ্বব্যাংক কর্তৃক প্রেরিত গাইডলাইন ব্যবহার করে এই প্রাক্কলন করা হয়েছে, যা দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে নীতি ও কর্মসূচির নকশা এবং লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণে সহায়তা করে।

আরও